
বললাম তাকে, “ঋণাত্মক রেখায় হাঁটছ কেন?” সে পিছন ফিরে দেখল আমাকে। চোখ টলটল করছে জলে, ধুয়ে ফেলছে সব পরিচিত বেদনা। আর নাকি ফিরবে না সে কোনো মানবীয় দৃশ্যে। তার চোখে এই কথাটা সহজেই পড়তে পারলাম। টিউবওয়েলের পানি যাওয়ার মাইট্টা নালার পাশে, উচ্ছিষ্ট ভাত ও মাছের কাঁটার উপর দিয়ে হেঁটে চলে গেল সে। সামনের গাছটিই তার

আজ মর্গে রাত ১২টা থেকে তপন কুমারের ডিউটি শুরু। তপন একটা চেয়ার পেতে বসে আছে।চারিদিকে কেমন জানি নীরবতা, কোন সাড়াশব্দ নেই। অবশ্য সাড়া না থাকারই কথা। মর্গে এখন তপন ছাড়া আর কেউ নেই। আর যারা আছে তাদের কারো প্রাণ নেই। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মানুষের প্রাণ থাকলে সে মানুষ, আর প্রাণ হারালে সে লাশ। মানে শরীর

ধীরে ধীরে আয়নার শরীরটা বদলে যেতে থাকে। কমনীয় নারী শরীরটার জায়গায় একটা মাংসল পুরুষালি দেহ দাঁড়িয়ে থাকে। চওড়া কাঁধ, শক্ত চোয়াল, ওষ্ঠের উপর পাতলা গোঁফের রেখা; ভরাট স্তন যুগল মিলিয়ে যায়, যোনির জায়গা দখল করে পুরুষাঙ্গ। শান্ত নিজের লোমশ হাত, পা, বুক স্পর্শ করে। লম্বা ভেজা চুলগুলো কায়দা করে পেছনে নিয়ে আটকে দেয়। তারপর মুগ্ধ

“এসব কী হচ্ছে রিফাত?” আচমকা চিৎকারে আমি আর রামিম দুজনেই চমকে উঠলাম। ঘরের ভেতর হঠাৎ রুহিকে দেখে ভয়ে আমাদের পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। —ছি! ভাবতেও ঘেন্না হচ্ছে রিফাত তুমি আমার স্বামী। মেয়েদের মতো শাড়ি ব্লাউজ পরে আমার ভাইয়ের সাথে! ছি! রুহির কথা শুনে আমি মাথা নিচু করে রইলাম। ভয়ে হাত পা কাঁপছে আমার।

এক গ্রামের নাম পদ্মবাহার। নামের মতই সুন্দর আমাদের এই গ্রামটি। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ক্ষেত। গ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে রেললাইন। গ্রামের শেষ সীমানায় রয়েছে একটা ছোট রেলস্টেশন। প্রতিদিন ভোরে একটা ট্রেন আসে। থামে পাঁচ মিনিটের জন্য। আর বাকি সময়টা নির্জন নিস্তব্ধ থাকে পুরো স্টেশন। গ্রামের মাঝখানে রয়েছে বিশাল একটি দীঘি। লাল নীল দীঘি। এই দীঘির

(এই লেখায় কিছু অংশে পুলিশের নৃশংস বর্ণনার উল্লেখ আছে। তাই পাঠককে পড়ার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার জন্য অনুরোধ করছি। ই-ভিজুয়াল প্রোডাকশন-এর একটি আয়োজনে একজন কথক তার অভিজ্ঞতা থেকে একটি সত্য ঘটনা বর্ণনা করেন, যার অবলম্বনে এই গল্পের মূল কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।) ১। রংবেরঙের বেলুন ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে রাশেদের কখনই ভালো লাগে না। প্রায়

সুখপুর স্টেশন টা আজকে লোকে লোকারণ্য। আমি স্টেশনের একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি। এখনো ঢাকাগামী ট্রেন এসে পৌঁছায়নি। আজ সুখপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। তাই আজকের এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। কিন্তু কালকে অফিসে একটা জরুরী মিটিং থাকায় আজকেই ফিরে যেতে হচ্ছে। ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। অনেক মানুষ

আজিজুল হক নাজিম বিকেলে হাঁটতে বের হল। হাঁটতে বের হলেই সে দেখতে পায় অনেক রকমের দৃশ্য; দেখতে পায় তার বয়সী কয়েকজন দাপিয়ে ফুটবল খেলছে তার বাড়ির পাশের মাঠে; আবার মাঠের আরেক পাশে খেলা হচ্ছে ক্রিকেট। ওদিকে দেখতে পায় মেয়েরা মাঠের কোণের দোলনার দিকে দাঁড়িয়ে গল্প আর খুনসুটি করছে। এসব দেখে নাজিমের মনে হয় ওরা সবাই

অরণ্যরাত্রি সুমির কথা, আমাদের বাসায় একটি মাত্র আয়না রয়েছে। সেটা হল মায়ের ড্রেসিং টেবিলের আয়না। আমি যখন ছোট ছিলাম, তিন কি চার বছর বয়স, তখন এই আয়নাটা আমার একটা খেলনার মত ছিল। কিছুক্ষণ পর পর আয়নায় নিজেকে দেখতাম।ছোট বেলায় আমি মনে হয় খুব নারসিসিস্ট ছিলাম। কিন্তু যখন স্কুলে ভর্তি হলাম তখন প্রথম শোনা শুরু করলাম

আজ হয়তো গুম হবো, নাহলে খুন হবো নাহলে বিরাট এক ধরা খাবো। এই তিনটার একটাও যদি আমার সঙ্গে না ঘটে তাহলে একুশ শতাব্দীর প্রযুক্তির যুগের এক অনন্য রূপকথা নাযিল হবে। তবে আমি এক কট্টর বাস্তববাদী যুবক, আমার পক্ষে রূপকথা কোনভাবেই হজম হবে না। বরং সেই রূপকথা যে কালি দিয়ে লেখা হয়েছে তা ফ্লুয়িড দিয়ে মুছতে