
উৎস ধী ব্লগ ধরণ ওয়েবসাইট প্রকাশকাল ২ এপ্রিল ২০১৭ ক্যাটাগরী ব্লগ, ন্যারেটিভ বরাবর,পৃথিবী৩০ এপ্রিল, ২০১৬ আমাদের জীবনে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা ঘটার পর কোন কিছুই আর আগের মতো থাকে না। দুদিন আগেও আমি জীবন কে যেভাবে দেখতাম তা আর আগের মতো নেই। সব বদলে গেছে। চোখের পলকে। এই সপ্তাহে আমার দুজন বন্ধু

অনুভূতির গহীনে শব্দের আনাগোনা মুল্যহীন। আমরা সবাই আমাদের মত করে অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম বেছে নেই। কিন্তু আমাদের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, অভিজ্ঞতার পরিমাপ হিসেবে শব্দের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শব্দের সাথে আবেগের মেলবন্ধনের এই যে প্রক্রিয়া, এর মধ্য দিয়ে নিজেকে জানা, নিজের সাথে বোঝাপড়া, অনুভূতির সরু অলিগলিতে যাতায়াত হয়ে ওঠে সহজতর। শব্দ আমাদের নিয়ে যায় এমন এক জগতে যেখানে

লিখেছেনঃ অণু ইসলাম তনয়, তুমি বিশ্বাস করতে আত্মা অবিনশ্বর। এখন আমারও মনে হয় তা। মনে হয়, ২০১৬ সালের ২৫শে এপ্রিল তোমার শরীরটা হারিয়ে গেছে, কিন্তু তুমি আছ আজো আমাদের মাঝে। আজ ২৫শে মার্চ, ২০১৭। ঠিক এক বছর আগের সন্ধ্যায় তোমার সাথে শেষ দেখা, শেষ আড্ডা, শেষ ভ্রমণ। ভ্রমণ! এটাকে কি ভ্রমণ বলা যায়? অনেক সময়ই

চৈত্রদাহে ঘুম ভাঙেনি, উপরি ভোর রাত থেকেই প্রকৃতি বেশ ঠান্ডা মেজাজে আছেন আজ। বৃষ্টি ঝরছিলো কখন থেকে টেরও পাইনি। সকালে উঠি উঠি করেও উঠতে ইচ্ছে করছিলোনা, শরীরে ডালপালা মেলেছে রাজ্যের আলস্য। ঠিক করলাম, ‘আজ আমি কোথাও যাবোনা’। আহারে বৃষ্টি, কত শত স্মৃতি এই বৃষ্টি নিয়ে! এরকমই কোন একটা বৃষ্টিস্নাত ছুটির দিনে জুলহাজ ভাইয়ার ঘরে বসে

প্রথম পরিচয় সেই ২০১২ সালে। এরপর থেকে জুলহাজ ভাইকে আমি পেয়েছি আমার জীবনের প্রায় সব প্রয়োজনে। ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে এলজিবিটি কাজ – প্রায় সব ব্যপারেই আমি তার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতাম। একজন এলজিবিটি ব্যক্তি হিসেবে আমাদের অধিকার নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা, উৎসাহ আর সুযোগ আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছিলাম। জুলহাজ ভাইকে দেখেই আমি

“সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা। কহো কানে কানে, শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা”॥ তনয় এর খুব পছন্দের একটি গান। প্রায়ই সে গুন গুন করে গাইত গানটি। যদিও ওর পছন্দের গানের তালিকা অনেক বড়। গান গাইতে বললেই শোনাত। ভণিতা করতো না অনেকের মতন। মূলত থিয়েটার বিষয়ক একটা কাজের সহায়তার জন্য তনয়ের সাথে আমার পরিচয় ২০১৩

আমরা জীবনের কোন না কোন সময় ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা পরিচয়-হীনতায় ভুগি। আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না। এক সময় ক্রাইসিসটা খুব ভুগাচ্ছিল আমায়। সেই সময়ে আমার পরিচয় হয় তনয়ের সঙ্গে। ২০১২ সালের দিকের কথা। তখন আমি প্রথম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি আমার মতো অনেক সমকামী আছে ঢাকা শহরে। তারা একটি ভিন্ন নাম ব্যবহার করে ফেসবুক আইডি

পরিচয় হয়েছিল ২ বছর হবে কিন্তু মনের মিলের কারণে সবসময় মনে হয়েছে দুজন দুজনকে চিনি বহু বছর। এটা ওনার একটা অসাধারণ গুণ ছিল। উনি নতুন কাউকে এমনভাবে বরণ করে নিতেন যেন মনে হত অনেক দিনের পরিচয়। জুলহাজ ভাইয়ের সাথে আমার অনেক ছোট-বড় স্মৃতি থাকলেও ২০১৬ সালের ১৪ই এপ্রিল আমার মনে থাকবে যতদিন বাঁচবো। উনার মৃত্যুর

সিএঞ্জিতে আমরা তিনজন, কারোর মুখে কোনো কথা নেই। ফার্মগেট পার হয়ে নাখালপাড়ায় উঠতেই থ্রি-হুইলারের ছোট্ট কামরায় ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেল। ইফতারের আগে আগে খালি রাস্তা পেয়ে সিএনজি দুই পাশের দুই পাখাতে ভর করে মাটি ছেড়ে আকাশে উড়াল দিল। সাই সাই করে পায়ের নিচে দিয়ে একদল টোকাই, কয়েকটা রিচার্জের দোকান, রেন্ট ই কার, বাসের ডিপো, সারি

জুলহাজ মান্নান। নামটা সামনে আসলেই একজন মানুষের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠে। একজন মানুষ যার সাথে আমার সম্পর্কটার কোন নাম আমি কখনোই দিতে পারি নি। ভালোলাগা, বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ, শ্রদ্ধা সবকিছু ছিল সেখানে। সর্বোপরি আমাদের সম্পর্কের একটা ভাষা ছিল। ঠিক কবে কিভাবে মানুষটা আমার দিক নির্দেশক হয়ে উঠল আমার মনে পড়ে না। তবে তার সাথে প্রথম